বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে বেশির ভাগ সূচক ঊর্ধ্বমুখী

বিশ্বব্যাপী গতকাল পুঁজিবাজারের বেশির ভাগ সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। আগের দিনের নিম্নগামী ধারা কাটিয়ে প্রধান সূচকগুলোর প্রায় সবই গতকাল বেড়েছে।

বিশ্বব্যাপী গতকাল পুঁজিবাজারের বেশির ভাগ সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। আগের দিনের নিম্নগামী ধারা কাটিয়ে প্রধান সূচকগুলোর প্রায় সবই গতকাল বেড়েছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) জ্যাকসন হোল সম্মেলনকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়তি প্রত্যাশা দেখা গেছে গতকাল। এ সম্মেলনে ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েলের বক্তব্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডের সুদহার ও মুদ্রানীতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়ার পাশাপাশি বাজারের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করছিলেন এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা। এরই প্রতিফলন দেখা গেছে শেয়ারবাজার সূচকগুলোর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায়।

গতকালের বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচারস সূচক বেড়েছে দশমিক ২৫ শতাংশ। নাসডাক ১০০ ফিউচারস বেড়েছে দশমিক ২১ শতাংশ। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ বেড়েছে দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে ইউরোপে আর্লি ট্রেডিংয়ে ইউরো স্টক্স ৫০ সূচক বেড়েছে দশমিক ৩৫ শতাংশ। জার্মানির ডিএএক্স সূচক বেড়েছে দশমিক ১৩ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক বেড়েছে দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। প্যারিসে সিএসি ৪০ বেড়েছে দশমিক ২৫ শতাংশ।

এশিয়ার বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। টোকিওতে নিক্কেই ২২৫ সূচক বেড়েছে দশমিক ১ শতাংশ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গত মাসে জাপানে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি জুনের ৩ দশমিক ৩ থেকে নেমে হয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ বিষয়ে আইএনজি ইকোনমিকস মন্তব্য হলো, জাপানের মূল্যস্ফীতির এ হার বাজার প্রত্যাশার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে মূল্যস্ফীতি যদি ৩ শতাংশের ওপর বিদ্যমান থাকে, তাহলে অক্টোবরেই দেশটিতে সুদহার বাড়ানো হতে পারে।

এ সময় চীনের হংকংয়ের হ্যাংসেং ও সাংহাই কম্পোজিট সূচক বেড়েছে যথাক্রমে দশমিক ৮ ও ১ দশমিক ৫ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি বেড়েছে দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া সম্প্রতি রেকর্ড উচ্চতায় ওঠা অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচকে দশমিক ৬ শতাংশ সংকোচন দেখা গেছে গতকাল। তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক ও ভারতের বিএসই সেনসেক্স সূচক যথাক্রমে দশমিক ৮ ও দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।

বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে গত কয়েক দিনে বড় প্রভাবক হয়ে উঠেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের টানাপড়েন। এর আগে সুদহার ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্কের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার টানা পঞ্চম দিনের মতো পতন হয়েছে ওয়াল স্ট্রিটের সূচকগুলোয়। মূলত মার্কিন খুচরা খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের শেয়ারদরে ধস ও সুদহার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এখানকার অধিকাংশ সূচক বিগত কয়েক দিন নিম্নমুখী প্রবণতায় ছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমে দশমিক ৪ শতাংশ। ১৪ আগস্ট রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছানোর পর থেকেই সূচকটিকে বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত টানা নিম্নমুখী ধারা বজায় রাখতে দেখা গেছে। এছাড়া ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ও নাসডাক কম্পোজিট দুটোই দশমিক ৩ শতাংশ হারে সংকুচিত হয়েছে।

এ সময় মার্কিন পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করেছে ওয়ালমার্ট। কোম্পানিটির বসন্তকালীন মুনাফা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। গত বৃহস্পতিবার একদিনে ওয়ালমার্টের শেয়ারদর কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে এনভিডিয়া ও বড় কিছু প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারদর সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা দোলাচলের মধ্যে পার করার পর বৃহস্পতিবার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে এখনো সংশয় রয়ে গেয়েছে যে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ফেডারেল রিজার্ভের ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) বৈঠক থেকে সুদহার কমানোর ঘোষণা আসবে কিনা। ফেড গভর্নরদের মধ্যেও কেউ কেউ বলছেন, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হওয়ায় এখনই সুদহার কমিয়ে বাজারে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো ঠিক হবে না।

এরই মধ্যে ক্লিভল্যান্ড ফেড প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যাম্যাক বলেছেন, ‘যদি এখনই নীতিনির্ধারণী বৈঠক হতো তবে আমি সুদহার কমানোর বিপক্ষে ভোট দিতাম। কারণ মূল্যস্ফীতিতে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। এ মুহূর্তে সুদহার কমানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

তবে ফেডের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ক্রমবর্ধমান চাপসহ নানা বিষয় বিশ্লেষণের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের ধারণা, এফওএমসির আগামী বৈঠকে সুদহার অন্তত ২৫ বেসিস পয়েন্ট হলেও কমানো হবে। জ্যাকসন হোল সম্মেলনে জেরোম পাওয়েলের বক্তব্যে সুদহারসংক্রান্ত যাবতীয় অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে এ-সংক্রান্ত সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সম্মেলনে তার বক্তব্যে ফেডের বর্তমান অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মুদ্রানীতির কাঠামো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়া হতে পারে।

সুদহার কমানো নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকায় এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ফেড। মার্কিন আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান সংশোধন করে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশটির শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সুদহারবিষয়ক অনিশ্চয়তা বন্ড মার্কেটেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এতে ট্রেজারির ইল্ড বেড়েছে। গতকাল মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের অবস্থান শক্তিশালী ছিল। জাপানি মুদ্রার বিপরীতে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১৪৮ দশমিক ৫৬ ইয়েন। ইউরোর বিনিময় হার কিছু কমে দাঁড়িয়েছে ১ ডলার ১৬ সেন্টে।

আরও